ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফয়সল, নাকি নতুন মুখ?

রহমত আরিফ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রধান প্রশ্ন—ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির পরবর্তী প্রার্থী কে হচ্ছেন?
দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে মির্জা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবা মির্জা রুহুল আমিন (চখা মিয়া) পৌর মেয়র, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী ছিলেন। মির্জা ফখরুলও পৌর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের পর সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এবার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমিন। দীর্ঘদিন জেলা বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রাখছেন।
মির্জা ফয়সল আমিনের পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছেন মির্জা ফখরুলের বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা। চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও গবেষক শামারুহ মির্জা গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাবার হয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ছিলেন। এ কারণে বাবার অনুপস্থিতিতে তাকেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন অনেকে।
তবে এখন পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী হিসেবে কারও নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। জেলা বিএনপির নেতারা বলছেন, দলের মনোনয়ন বোর্ড যাকে প্রার্থী করবে, তার পক্ষেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন তারা।
জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মামুন উর রশিদ বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে, নেতাকর্মীরা তার হয়েই কাজ করবেন। তার প্রত্যাশা, উপনির্বাচন হলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীও দলের ঐক্যের কথা জানিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই সবাই মেনে নেবেন।
অন্যদিকে মির্জা ফয়সল আমিন নিজেও জানিয়েছেন, দলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দল যোগ্যতার ভিত্তিতে যাকেই মনোনয়ন দেবে, জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে তিনি তার জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।
মির্জা ফয়সল বলেন, তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের একটি অংশ তাকে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চান। আবার অনেকে তার ভাতিজি শামারুহ মির্জাকেও প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। তবে শেষ সিদ্ধান্ত বিএনপির।
সব মিলিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসন নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা এখন তুঙ্গে। মির্জা পরিবারের মধ্য থেকেই প্রার্থী আসবেন, নাকি দল নতুন কোনো মুখকে সামনে আনবে—তা নির্ভর করছে বিএনপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। মনোনয়ন ঘোষণা হলে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে।








